আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার লড়াইতে প্রথম গোলটাই হয়তো ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে। আর্জেন্টিনা টানা সাত জয়ের ফর্মে আছে, টানা সাত ম্যাচে গোল করেছে এবং শেষ তিন ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। আলজেরিয়াও দুর্দান্ত ধারায়—শেষ চার ম্যাচে অপরাজিত, চারটিতেই ক্লিন শিট। দুই দলই শেষ ম্যাচে গোল খায়নি, তাই এই ম্যাচে সামান্য ব্যবধানেই ফয়সালা হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
শুরুর আধিপত্য আর্জেন্টিনার শক্তি—তারা ৮৮% ম্যাচে প্রথমার্ধ জেতে, যেখানে আলজেরিয়ার হার ৪১%। পরিসংখ্যান প্রথম গোলের ওজন বাড়ায়: আর্জেন্টিনা ঘরে ১-০ এগোলেই ১০০% ম্যাচ জেতে। উল্টো দিকে, আলজেরিয়া বাইরে ০-১ লিড পেলে তারাও ১০০% জেতে; কিন্তু বাইরে ১-০ পিছিয়ে গেলে তাদের জয়ের হার ০%। অর্থাৎ, যে দল আগে আঘাত করবে, সে-ই পাবে বিশাল সুবিধা।
সাম্প্রতিক সরাসরি লড়াইয়েও আর্জেন্টিনা এক গোলে জিতেছিল—এবারও যে ম্যাচ টানটান হবে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবু আক্রমণভাগে দুই দলই হুমকি—আর্জেন্টিনা ঘরে গড়ে ২.৬৭ গোল করে, আলজেরিয়া বাইরে ২.৩ গোল। মূল কাহিনি আর্জেন্টিনার উচ্চ-টেম্পো আক্রমণ বনাম আলজেরিয়ার সাম্প্রতিক রক্ষণশক্তির দ্বন্দ্ব।
কৌশলগতভাবে আর্জেন্টিনা বল-দখলে আধিপত্য চাইবে, দ্রুত কম্বিনেশন ও তির্যক দৌড়ে আগেই গোল খুঁজবে, সেট-পিস ও সেকেন্ড-বলে চাপ তৈরি করবে। আলজেরিয়া সম্ভবত কমপ্যাক্ট মিড-ব্লক রাখবে, ডুয়েল জেতার সময়টা বেছে নেবে এবং ট্রানজিশনে আঘাত হানবে। টানা চার ক্লিন শিটের পেছনে ব্যাকলাইনের স্পেসিং ও গোলকিপারের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল—আর্জেন্টিনার দ্রুত পাসিংয়ের বিপরীতে এই দৃঢ়তাই দরকার।
ফয়সালার খুঁটিনাটি হতে পারে সেট-পিস ও ট্রানজিশন-ডিফেন্স। যদি আর্জেন্টিনা বিরতির আগেই গোল করে—তাদের ৮৮% প্রথমার্ধ জয়ের ধারার সাথে সঙ্গত—তবে তারা নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করতে পারে। আর যদি আলজেরিয়া আগে এগোয়, তাদের অ্যাওয়ে কনভার্সন রেকর্ড বলে তারা ম্যাচ ‘লক’ করতে পারে। সম্ভাব্য চিত্র: সামান্য বাড়তি সুবিধা আর্জেন্টিনার; ২-০ বা ২-১ ধরনের স্কোর সম্ভাব্য, তবে আসল নির্দেশক রয়ে যায় প্রথম গোল।