
প্রীমিয়ার লিগের এক সাবেক কর্মকর্তা সেট-পিসের ধাক্কাধাক্কি নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব—কর্নার নেওয়ার আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা যেন গোল এরিয়ায় (ছোট বক্স) ঢুকতে না পারেন। বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে Cann বলেন, বল খেলায় না থাকায় তখন ফাউল দেওয়ার সুযোগ থাকে না, তাই বাধ্যতামূলক দূরত্ব তৈরি হলে ঠেলাঠেলি কমবে।
এই ভাবনাটি এসেছে কর্নারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে, যেখানে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড বনাম আর্সেনাল এফসি (০-১) উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। Cann মনে করেন, যদি খেলোয়াড়দের ছোট বক্সের বাইরে থেকে শুরু করতে হতো, তাহলে চিত্র “সম্পূর্ণ ভিন্ন” হতো। মার্কিং বদলাত, এত কাছাকাছি ধরা পড়ত না, এবং যে ফাউল নিয়ে এত আলোচনা হয়েছিল, তা হয়তো ঘটতই না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন ফুটবল অনিশ্চিত: নতুন শুরুর অবস্থানে আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া সহজে বল ধরতে পারতেন, কিংবা ওয়েস্ট হ্যাম আরও ভালো রান পেয়ে যেত।
প্রস্তাবটির পক্ষে যারা, তারা কয়েকটি সুফল দেখেন—রেফারি ও VAR-এর জন্য পরিষ্কার দৃষ্টিসীমা, গোলরক্ষকের ওপর ভিড় কমে যাওয়া, এবং রিস্টার্টের সচ্ছতা বজায় থাকা, কারণ বল ডেড থাকা অবস্থায় লড়াই কমবে। ট্যাকটিক্যালি কর্নারের ছকও পাল্টে যাবে—নিয়ার পোস্ট রান, সেকেন্ড ফেজ স্ক্রিন এবং গোলকিপারকে ঘিরে ধরা—সব কৌশলই নতুন করে সাজাতে হবে।
তবে চ্যালেঞ্জও আছে। ছোট বক্সের সীমানায় নতুন ‘জ্যাম’ তৈরি হতে পারে, কিকের পর প্রথম ধাপটাই নতুন লড়াইয়ের ময়দান হবে। ডিফেন্ডাররা ব্লক সাজাবে, আক্রমণভাগ সময়জ্ঞান নতুন করে শিখবে, গোলরক্ষকের সামনে ভিন্ন কোণের ভিড় জমবে। যে কোনো পরিবর্তনের আগে গ্রাসরুটস থেকে এলিট পর্যন্ত শিক্ষাদান জরুরি এবং IFAB-এর অধীনে পাইলট ট্রায়াল প্রয়োজন।
এতে কি আর্সেনালের শিরোপা দৌড় বদলে যেত? তা অনুমানই। কিন্তু প্রস্তাবটি কর্নারের মতো ম্যাচ-নির্ধারক, বিতর্কপ্রবণ পর্বে আরও স্পষ্টতা ও শক্ত আইনি কাঠামোর প্রতিশ্রুতি দেয়—যেমন ওয়েস্ট হ্যাম বনাম আর্সেনাল স্মরণ করিয়েছে।