বিশ্বকাপ গ্রুপ C-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ ড্র করেছে। নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির ভরা গ্যালারিতে আফ্রিকান শক্তি তাদের সংগঠিত ফুটবলে উজ্জ্বল ছিল, আর ব্রাজিলের পরিচিত মাঝমাঠের ফাঁকফোকর চোখে পড়ে। প্রথমার্ধে ইসমাইল সাইবারি শান্তভাবে ফিনিশ করে মরক্কোকে এগিয়ে নেন; বিরতির পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দারুণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান।
শুরুর দিকেই মরক্কো ছিল বেশি সুশৃঙ্খল। ডান দিক দিয়ে আশরাফ হাকিমির তীব্র দৌড়, বিলাল এল খান্নুসের বুদ্ধিদীপ্ত পজিশনিং এবং কিশোর মিডফিল্ডার আয়্যুব বুয়াদ্দির স্থির নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলের ডিফেন্সকে টানতে থাকে। চাপের ফল মেলে যখন লুকাস প্যাকুয়েতা মাঝমাঠে বল হারান; দিয়াজ নিখুঁত থ্রু-বল বাড়ান এবং সাইবারি মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েলের মুহূর্তিক ঢিলেঢালোপনাকে কাজে লাগিয়ে গোল করেন।
১৪ মিনিটে ইগর তিয়াগোর হেড থেকে ব্রাজিলের প্রথম বড় সুযোগ আসে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সেটাই ইঙ্গিত দেয় অসংলগ্ন আক্রমণের—লাইনের মাঝে ফাঁকা জায়গা, ধারাবাহিকতা নেই, ট্রানজিশনে ভরসা। কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য উদ্বেগ থাকবে, মরক্কো কী সহজেই মাঝমাঠ চিরে গেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ছন্দ তোলে এবং ভিনিসিয়ুস জ্বলে ওঠেন: উইং থেকে বল নিয়ে ভিতরে কেটে দু’জনকে এড়িয়ে দূরপোস্টে বাঁকানো শটে সমতা। এরপরও মরক্কো পরিকল্পনামাফিক থাকে—দ্রুত পাশ বদল ও হাকিমির ওভারল্যাপিংয়ে হুমকি অব্যাহত।
পরিবর্তনের পর ম্যাচ আরও আঁটসাঁট হয়। ব্রাজিল ভিনিসিয়ুসকে বেশি এক-অন-ওয়ান দেওয়ার চেষ্টা করে; মরক্কো বুয়াদ্দি ও এল খান্নুস দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করে—প্রয়োজনে ধীর, সুযোগে দ্রুত। শেষ দিকে সেট-পিস থেকে কয়েকটি আধাছবি পেলেও মরক্কোর ডিফেন্স দেয়াল হয়ে থাকে।
এই ড্র গ্রুপ C-কে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিল। ব্রাজিল ও মরক্কো এক পয়েন্টে, এখন স্কটল্যান্ডের সামনে সুযোগ—হাইতিকে হারাতে পারলেই শীর্ষে। ২০২২-এর সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো দেখাল তারা সংগঠন, গতি ও ট্রানজিশনে মহাশক্তিদের টক্কর দিতে পারে। ব্রাজিলকে এখন মাঝমাঠের কাঠামো মজবুত করে ফরোয়ার্ড লাইনে ধারাবাহিক সাপ্লাই নিশ্চিত করতে হবে।
খেলার সূক্ষ্মতায় নির্ধারিত এই ম্যাচে মরক্কোর কাঠামো ও ব্রাজিলের ব্যক্তিগত মেধা একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করেছে। পরের রাউন্ড নির্ণায়ক হতে পারে, তবে স্পষ্ট—গ্রুপ C হবে তীব্র প্রতিযোগিতাময়।