
ইউরো ২০২০–এর মর্মান্তিক ঘটনার পাঁচ বছর পর, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন রোববার ওডেন্সের নেচার এনার্জি পার্কে ডেনমার্ক বনাম ইউক্রেন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আবার মাঠে লুটিয়ে পড়েন। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে জার্মানির ভিএফএল উলফসবুর্গে খেলেন, পড়ে যাওয়ার আগে বুকে হাত দিয়ে সংকেত দেন। সতীর্থরা সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে সুরক্ষা বলয় তৈরি করেন এবং চিকিৎসকরা দ্রুত মাঠে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ডেনিশ এফএ জানায়, এরিকসেন চেতনায় আছেন এবং “পরিস্থিতি অনুযায়ী ভালো বোধ করছেন।” স্টেডিয়ামে সমর্থকরা তাঁর নাম ধরে স্লোগান দেন। প্রায় দশ মিনিটের চিকিৎসার পর যখন এরিকসেনকে উঠিয়ে আনা হয়, সমগ্র গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালিতে ভাসিয়ে দেয়।
টিভি সম্প্রচার চিকিৎসার সময় দৃশ্য সীমিত রাখে। ডেনমার্কের সাবেক ফরোয়ার্ড ও আর্সেনালের প্রাক্তন খেলোয়াড় নিকলাস বেন্ডটনার টিভি২–এ আবেগ ধরে রাখতে লড়াই করেন। সতীর্থ ও স্টাফদের মুখে ছিল স্পষ্ট উৎকণ্ঠা; প্রতিযোগিতার গুরুত্ব মুহূর্তেই সরে গিয়ে সবার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় এরিকসেনের সুস্থতার ওপর।
২০২১ সালে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো ম্যাচে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর এরিকসেনের প্রত্যাবর্তন ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। মাঠেই সিপিআর দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ডিফিব্রিলেটর (ICD) প্রতিস্থাপন করা হয়। মাত্র আট মাসের মধ্যে তিনি ব্রেন্টফোর্ডের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে ফেরেন, এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেন এবং বর্তমানে উলফসবুর্গে নিয়মিত খেলছেন।
যদিও প্রীতি ম্যাচটি স্থগিত হয়েছে, ডেনমার্ক, ইউক্রেন ও সমগ্র ফুটবল দুনিয়ার নজর এখন এক জায়গায়—এরিকসেনের স্বাস্থ্য। ডেনিশ এফএ জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে। এই দৃশ্য পুরনো আতঙ্ককে স্মরণ করালেও ফুটবলের ঐক্যও স্পষ্ট হয়েছে—দ্রুত চিকিৎসা সাড়া, সতীর্থদের সুরক্ষা বলয় এবং এরিকসেন দাঁড়ালে সমর্থকদের দাঁড়িয়ে করতালি।
পুনর্নির্ধারণ বা ম্যাচ–সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সমর্থকদের অভিন্ন প্রার্থনা—এরিকসেন দ্রুত ও নিরাপদে সেরে উঠুন।