সব
বিশ্বকাপ
ফুটবল
ভবিষ্যদ্বাণী
ম্যাচ রিপোর্ট
নেভিল: বেলিংহ্যামের প্রভাব নজিরবিহীন; ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা
গ্যারি নেভিলের বিশ্বাস, জুড বেলিংহ্যাম যে প্রভাব এখন ইংল্যান্ড দলে রাখছেন, তা আগে খুব কমই দেখা গেছে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নেভিল মনে করিয়ে দিলেন—কড়া গরমে নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন জয় সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ফল এনে দিয়েছে, আর এই লড়াই-মনোভাবই শেষচৌকাঠে বড় পার্থক্য গড়তে পারে।
নেভিল বলেন, “আমরা দুর্দান্ত অবস্থায় আছি।” তার মতে, এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝলমলে পারফরম্যান্স আশা করা কঠিন; তাই ফলটাই বড় কথা। এই প্রেক্ষাপটে বেলিংহ্যামের নেতৃত্বসুলভ উপস্থিতি—চাপের সময়ে বল চাওয়া, ডিপ থেকে দৌড়ে উঠে আসা, সঠিক সময়ে টেম্পো বদলানো এবং ডুয়েলে সাহস—ইংল্যান্ডকে কাঠামোগত স্থিতি দেয়।
ইংল্যান্ডের জন্য লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হবে মাঝমাঠের ঘনত্ব ও ট্রানজিশন সামলানো। বেলিংহ্যামের লাইন-ভাঙা দৌড় ও থার্ড-ম্যান রান, উইং থেকে বিস্ফোরক আক্রমণের সঙ্গে মিলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ-গঠনকে টলিয়ে দিতে পারে। সেট-পিসে ধারালো থাকা এবং বল হারানোর পরপরই উচ্চ-প্রেসও ফল দিতে পারে।
অন্যদিকে লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার ভয়ংকর উপস্থিতি। খেলার শেষ দিকেও তার আকর্ষণ ডিফেন্সিভ লাইন টেনে নেয় এবং রানারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। ম্যাচের আগে মেসি ইংল্যান্ডকে “পাওয়ারহাউস” বলেও প্রশংসা করেছেন—নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রস্থে দ্রুততা এবং মিডফিল্ড থেকে দেরিতে বক্সে ঢোকার ক্ষমতা মিলিয়ে যে দলটিকে ভয়ঙ্কর করে তোলে।
ধারণা করা হচ্ছে, সূক্ষ্ম পার্থক্যেই রায় হবে: এক নিখুঁত কাউন্টার, এক সেট-পিসের ঝলক, কিংবা বেলিংহ্যামের কোনো টার্ন-ড্রাইভ। শেষ ৩০ মিনিটে ক্লান্তি ও বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে—কে টেম্পো ধরে রাখে, কে প্রেসে ধার বজায় রাখে, সেখানেই ফয়সালা।
জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স বা স্পেনের। আপাতত দৃষ্টি এই আন্তমহাদেশীয় লড়াইয়ে—বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে শক্ত কাঠামো নিয়ে ইংল্যান্ড বনাম শিল্প-সৃষ্টিশীল আর্জেন্টিনা ও মেসির স্থায়ী জাদু। নেভিলের সারকথা: এই সেমিফাইনালে বেলিংহ্যামের প্রভাবই ট্রাম্প কার্ড হতে পারে।