সব
বিশ্বকাপ
ফুটবল
ভবিষ্যদ্বাণী
ম্যাচ রিপোর্ট
শিয়ারার: ইংল্যান্ডে চারটি ইতিবাচক, তবু বড় শঙ্কা
জুড বেলিংহামের কর্নার থেকে লিড এবং পরে হ্যারি কেইনকে নিখুঁত সহায়তা—এই দুই মুহূর্তে দুই গোলের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এর সঙ্গে কেইন জাতীয় দলের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও শীর্ষে ওঠেন। তবু অ্যালান শিয়ারারের মূল্যায়ন ছিল সংযত। তার মতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে মাত্র চারটি “পরিষ্কার ইতিবাচক” দিক ধরা পড়েছে—সবার আগে বেলিংহাম–কেইনের সমন্বয়—কিন্তু নকআউটে প্রকৃত পরীক্ষা বাকি।
সম্ভাব্য শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ হতে পারে ডিআর কঙ্গো। শিয়ারারের ধারণা, ম্যাচের ছক অনেকটা ঘানা ও পানামার বিপক্ষের মতো হবে: কমপ্যাক্ট লাইন, লো ব্লক এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। BBC Radio 5 Live-এ তিনি বলেন, “যদি ডিআর কঙ্গো হয়, তারা আজকের মতোই ডিফেন্সিভ খেলবে এবং কাউন্টারে আঘাত করবে। তখন জট খুলতে কোনো খেলোয়াড়ের জাদুকরি মুহূর্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।”
এমন প্রেক্ষাপটে ছোট জায়গায় সৃজনশীলতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বেলিংহামের বক্সে দৌড় আর কেইনের মুভমেন্ট ছাড়াও মিডফিল্ড–উইঙ্গার সমন্বয়, বক্সের সামনে তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন এবং ধাঁধাঁ কাটাতে সেট পিস বড় ভূমিকা নেবে। বেলিংহামের হেড থেকে গোল দেখাল যে ডিআর কঙ্গো যদি গভীরে বসে থাকে, তবে সেট পিসই ম্যাচের নির্ণায়ক হতে পারে।
রক্ষণভাগে শিয়ারার এমন এক ঝুঁকি চিহ্নিত করেছেন যা ইংল্যান্ডের উচ্চতা সীমাবদ্ধ করতে পারে। ডান দিকের ফুল-ব্যাকে বিকল্প কম; তাই ট্রানজিশনে ডিফেন্সের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে তার “শঙ্কা” জন স্টোনসকে ঘিরে—যার অবস্থান ও বল বিল্ড-আপে ভূমিকা ইংল্যান্ডের কাঠামোর কেন্দ্রে। টমাস টুখেলের স্কোয়াড নির্বাচনের প্রসঙ্গে শিয়ারার যোগ করেন, “তিনি এই সিদ্ধান্তগুলোর জন্য পস্তাবেন কি না, এখনই বলা যায় না।” নকআউটে ডিফেন্সিভ প্রোফাইলের সামান্য ভুলও বড় প্রভাব ফেলে।
কৌশলগতভাবে ইংল্যান্ডকে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ধার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়ে ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ড স্ক্রিন টেনে বের করা, রোটেশনে বেলিংহামের জন্য ইনসাইড চ্যানেল খোলা এবং কন্ট্রা রুখতে আক্রমণাত্মক রেস্ট-ডিফেন্স জরুরি। যদি সেট পিস হুমকি টিকে থাকে, মাঝখানে ফাঁকা না পড়ে এবং কেইন শেষ পাসের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে সম্ভাবনা জোরালো। তবে শিয়ারারের সতর্কতা—নকআউট এক ভুলেই ঘুরে যায়; বিশেষ করে ডানদিক ও স্টোনসের আশেপাশে ভুলের সুযোগ নেই।