সব
বিশ্বকাপ
ফুটবল
ভবিষ্যদ্বাণী
ম্যাচ রিপোর্ট
দশ জনে ইংল্যান্ডের ‘ওয়ান্ডারওয়াল’, মেক্সিকোকে ৩-২
বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দশ জন নিয়েই ইংল্যান্ড গড়ল নিজের ‘ওয়ান্ডারওয়াল’। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জ্যারেল কোয়ানসাহের বেপরোয়া ট্যাকলে লাল কার্ডে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তবু শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তায় ইংল্যান্ড চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেয়। এটি ১৯৮৬ সালের পর মেক্সিকোর সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন, যে মাঠে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ ও দৌড়ে ববি রোবসনের দল বিদায় নিয়েছিল।
শুরুর দিকে প্রান্তভাগ ব্যবহার ও দ্রুত আক্রমণে ইংল্যান্ড সুযোগ তোলে। কোয়ানসাহ বহিষ্কারের পর মেক্সিকো লাইন তুলে চাপে রাখে। তবু ইংল্যান্ড স্নায়ু ঠাণ্ডা রাখে। ঘণ্টা ছোঁয়া সময়ে অ্যান্টনি গর্ডনকে গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড; হ্যারি কেইন শান্তভাবে স্পটকিক থেকে জালে জড়ান এবং ব্যবধান বাড়ে—গ্যালারিও কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ।
এর পরই পাল্টা ধাক্কা। ডি-বক্সে ক্লিয়ার করতে গিয়ে কেইনের ফাউলে VAR দেখে মেক্সিকোও পেনাল্টি পায়। রাউল হিমেনেজ নিখুঁত শটে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন, আর শেষ কুড়ির বেশি মিনিটে রোমাঞ্চ চরমে ওঠে।
বাকি সময় ইংল্যান্ড নীচু ব্লকে ঘন রক্ষণে যায়—উইংয়ে ডাবল কভার, ক্রস কাট, বক্সে শেষ মুহূর্তের ট্যাকল; প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স যেন গোলের উদযাপন। বল দখল ও এলাকায় আধিপত্য ছিল মেক্সিকোর, তবু ইংল্যান্ডের সংগঠিত দেয়াল আর জেদ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশিতে মেক্সিকোর মাটিতে ইংল্যান্ড তুলে নেয় দারুণ এক বিশ্বকাপ জয়।
কেইনের নির্ণায়ক পেনাল্টি, হিমেনেজের জবাব আর কোয়ানসাহের লাল কার্ড—এই তিন মোড়েই লুকিয়ে ছিল ম্যাচের কাহিনি। ইতিহাসের ছায়া ও তীব্র চাপে, দলগত শৃঙ্খলা ও সাহসেই ইংল্যান্ড শেষ হাসি হাসে।