
২০০৬ সালের পর মায়োর্কা লেভান্তের মাঠে জিততে পারেনি, আর এখন তারা মুখোমুখি এক এমন ঘরের, যেখানে লা লিগায় টানা চার হোম জয় নিয়ে লেভান্তে আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে। ভ্যালেন্সিয়ায় শেষ ১২ লড়াইয়ে লেভান্তে ৭-৩-২ এগিয়ে এবং গোলপার্থক্য ২০-৮—সিয়ুতাত দে ভ্যালেন্সিয়াকে সত্যিকারের দুর্গ বানিয়ে দিয়েছে এই ধারাবাহিকতা।
ইতিহাস বলে, ব্যবধান ছোট হলেও ভারসাম্য সাধারণত লেভান্তের দিকে ঝোঁকে। এই মাঠে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে লেভান্তের ২-০ জয়; মোট মুখোমুখিতে ২-১ ফলটাই সবচেয়ে সাধারণ। শেষ ২৫ ম্যাচে লেভান্তের ১০, মায়োর্কার ৯ জয়; ড্র ৬টি; মোট গোল ৩১-২৭—সিদ্ধান্ত আসে সূক্ষ্ম মুহূর্তে, খেলা পড়া আর শৃঙ্খলায়।
সময়ের জানালাই বড় কাহিনি। লেভান্তে তাদের ৩০% গোল করেছে ৭৬-৯০ মিনিটে; মায়োর্কা ৬১-৭৫ মিনিটে করেছে ২৬%। তাই দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের রং পাল্টানোর সম্ভাবনা সর্বাধিক—ঘণ্টা পেরোতেই মায়োর্কার চাপে ওঠা, আর শেষ পনেরোতে লেভান্তের চূড়ান্ত ধাক্কা।
এখানেই কৌশল নির্ধারিত হবে। মায়োর্কা যদি নিজের সেরা সময়ে হাই-প্রেস, দ্রুত কম্বিনেশন বা সেট-পিসে সুবিধা তোলে, তবে ২০০৬ থেকে গড়ে ওঠা মানসিক দেয়াল ভাঙা সম্ভব। নইলে ঘরের মাঠ, সমর্থন আর ফর্ম—সব মিলিয়ে লেভান্তের লেট-গেম ম্যানেজমেন্ট পাল্লা ভারী করে দেবে। বদলি, এনার্জি ম্যানেজমেন্ট ও ট্রানজিশন—দুই শিবিরেই হবে চাবিকাঠি।
দেখার বিষয়: ৬০ মিনিটের আশপাশে তীব্রতার পরিবর্তন; প্রথম গোলের গুরুত্ব—বিশেষত এমন মাঠে যেখানে ২-০ ঘনঘন দেখা যায়; আর শেষ কোয়ার্টারে মায়োর্কার মানসিক দৃঢ়তা।
অর্থাৎ, আরেকটি হোম জয় লেভান্তের গতিকে আরও দৃঢ় করবে। মায়োর্কার জন্য এখানে পয়েন্ট, তারও বেশি হলে জয়—গল্পটাই বদলে দিতে পারে এবং বহু বছরের খরা কাটাতে পারে, যদি তারা নিজের সেরা সময়ে আঘাত হানে এবং লেভান্তের দেরিতে ওঠা ঝড় সামলে দেয়।