
ইতিহাস, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ম্যাচের শেষভাগে গোলের প্রবণতা—এই তিনে রচিত লন্ডনে টটেনহ্যাম বনাম এভারটন লড়াই। নিজেদের মাঠে এভারটনের বিপক্ষে ৩৩ ম্যাচে টটেনহ্যাম জিতেছে ২১টি, হেরেছে মাত্র ৪টি; গোল ব্যবধানে ৬৭-৩২ এগিয়ে স্পার্স। মোট ৬৭ দেখায়ও একই ছবি—টটেনহ্যামের ৩১ জয়, এভারটনের ১০, ড্র ২৬; গোল ব্যবধান ১১৩-৬৭। টটেনহ্যামের মাঠে এভারটনের শেষ জয় ২০২০ সালে—সাম্প্রতিক ইতিহাস স্পার্সের পক্ষেই।
ফর্মলাইনও তেমনই বলছে—টটেনহ্যাম টানা ৪ ম্যাচ অপরাজিত; এভারটন টানা ৬ ম্যাচ জয়হীন। গত মৌসুমে দুই লেগে তফাৎ স্পষ্ট: লন্ডনে ৪-০ ব্যবধানে স্পার্সের বড় জয়, আর গুডিসনে এভারটনের ৩-২ জয়। বার্তাটি পরিষ্কার—টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ব্যবধান সাধারণত স্বাগতিকদের দিকে, তবু নিজের ছন্দে এলে এভারটন লড়াই জমিয়ে তুলতে পারে।
দৃষ্টি থাকবে শেষ পনেরো মিনিটে। টটেনহ্যামের ২৮% গোল ৭৬-৯০ মিনিটে, এভারটনের ক্ষেত্রে এ হার ৩২%। ক্লান্তি ও ফাঁকা জায়গা বাড়ার সাথে সাথে ৭৫ মিনিটের পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই দলই দক্ষ। ঘরে স্পার্স সাধারণত রিদম বাড়িয়ে টেম্পো তোলে; এভারটন, খারাপ ফর্মেও, ট্রানজিশন ও সেট-পিসে সুযোগ খোঁজে।
হোম স্কোরিং বেসলাইনেও স্পার্স নির্ভরযোগ্য—এই মৌসুমে ১৮টি ঘরের ম্যাচে মাত্র ৩টিতে গোল পায়নি। ঐতিহাসিক দাপটের সঙ্গে এই ধারাবাহিকতা তাদের ফেবারিট করে। এভারটনের খেলার ছকও স্পষ্ট: মাঝের ধাপ টিকে থাকা, স্পার্সের মোমেন্টাম ভাঙা, এবং লড়াইকে শেষ পনেরোয় নিয়ে যাওয়া—যেখানে তাদের দেরিতে গোলের প্রবণতা কাজ দিতে পারে।
সারকথা: স্পার্সের ঐতিহাসিক আধিপত্য, এভারটনের ছয় ম্যাচের জয়খরা, আর দুই দলের শেষভাগে গোলের অভ্যাস—সব মিলিয়ে হোম দল এগিয়ে। তবে মোড় ঘুরতে পারে ৭৫ মিনিটের পর। এভারটন যদি শুরুতে চাপ সামলে বক্স রক্ষা করতে পারে, দেরিতে তাদেরও সুযোগ আছে; নইলে লন্ডনের দর্শকদের সামনে শেষ মুহূর্ত আবার স্পার্সের দখলেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।